Lead Newsনগরজীবন

কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান থেকে ‘গোল্ডেন’ মনির

অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মনির হোসেন গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। সময়ের ব্যবধানে তিনি স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে গ্রেফতারের পর শনিবার এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে মনিরের বাসায় শুক্রবার রাতে অভিযানে যায় র‌্যাব। ছয়তলা বাড়িতে র‌্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাবের মুখপাত্র লেটটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্লটের মালিক হয়েছেন। রাজউক থেকে প্লট সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র চুরি করে এবং অবৈধভাবে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দাফতরিক কাজে ব্যবহার করে রাজউক, পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানীগঞ্জে অন্তত দুই শতাধিক প্লট নিজের করে নেন।

ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে নামে-বেনামে তিনি দুই শতাধিক প্লটের মালিক হয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ৩০টির বেশি প্লটের কথা স্বীকার করেছেন।

মনিরের বিরুদ্ধে রাজউকের সিল নকল করে ভূমিদস্যুতার একটি এবং দুদকের একটা মামলা রয়েছে। চোরাচালানের দায়ে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়ে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এর আগে গতকাল রাত ১০টা থেকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব। এসময় গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করেছে র‌্যাব।

আশিক বিল্লাহ জানান, ১৯৯০ এর দশকে রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মো. মনির হোসেন। এরপর শুরু করেন ক্রোকারিজের ব্যবসা। তারপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল আনতেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণ চোরাকারবারে। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দখল করে এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক।

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =

Back to top button