শোবিজ

ধর্ষণ নিয়ে ভিডিও বার্তায় মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনায় অনন্ত জলিল

ধর্ষণ নিয়ে নায়ক অনন্ত জলিলের করা এক মন্তব্য নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর থেকেই অনেক তারকারা এই ভিডিও’র সমালোচনা করছেন।

ভিডিওটির শুরুতে অনন্ত জলিল ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তবে তার ভিডিওর পরবর্তী অংশে তার কিছু কথার মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদেরই দোষারোপ বা ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

শনিবার রাতে অনন্ত জলিলের ফেসবুক পাতায় ভিডিওটি আপলোড করা হয়। আপলোডের পর থেকেই ভিডিওটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা হয়।

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্ব মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুকে লিখেছেন, “আমি মেহের আফরোজ শাওন, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র ও মিডিয়াকর্মী এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসাবে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অসংলগ্ন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও বার্তা দেয়ার জন্য জনাব অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম।”

শাওন ছাড়াও চলচ্চিত্র অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা অনন্তের সমালোচনা করেন।

পরবর্তীতে, সমালোচনার মুখে অনন্ত জলিলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি মুছে দেয়া হয়। এরপর বির্তকিত অংশের ভিডিও মুছে ফেলে আবার ছোট করে ভিডিও আপলোড দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, সমালোচিত ওই ভিডিওর এক পর্যায়ে অনন্ত বলেন, “আমাদের দেশে সমস্ত মেয়েদের উদ্দেশ্যে কিছু বলি। ভাই হিসেবে, সিনেমা, টেলিভিশন সোশাল মিডিয়াতে অন্য দেশের অশ্লীল ড্রেস আপ দেখে ফলো করার চেষ্টা করো। এবং ফলো করে সেইম ড্রেস আপ পরে ঘোরাঘুরি করো।

এরপর তিনি বলেন, “এই চেহারার দিকে মানুষ না তাকিয়ে তোমাদের ফিগারের দিকে তাকায়। ফিগারের দিকে তাকিয়ে বখাটে ছেলেরা বিভিন্নভাবে মন্তব্য করে এবং রেপ করার চিন্তা তাদের মাথায় আসে। তোমরা কি নিজেদের মডার্ন মনে করো? এটা কি মডার্ন ড্রেস নাকি অশালীন ড্রেস।”

তিনি মেয়েদের শালীন পোশাক পরার কথায় জোর দেন। তিনি বলেন, “নিজেকে একটা ভদ্র মেয়ের পাশে দাঁড় করিয়ে দেখো কত বাজে লাগে। ছেলেদের মতো একটা টি-শার্ট পরে রাস্তায় বের হয়ে যাও। খুব মডার্ন তুমি। নিজেকে অনেক মডার্ন মনে করো। তারপর ইজ্জত হারিয়ে বাসায় যাও। হয় আত্মহত্যা করো, নয়তো কাউকে আর মুখ দেখাতে পারো না।”

অনন্ত বলেন, “শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে, যারা ধর্ষণের চিন্তা-ভাবনা করে তারাও তোমার দিকে তাকাবে না। সম্মান করবে। মাটির দিকে তাকিয়ে চলে যাবে।

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আইন চালু করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অনন্ত জলিল।

আরও খবর দেখুনঃ বিনোদন নিউজআন্তর্জাতিক নিউজ

Ananta Jalil, Ananta Jalil, Ananta Jalil

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − 4 =

Back to top button