ইতিহাসের ডায়েরী

শোন বলি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গল্প; সপ্তম পর্ব: স্বাস্থ্যবীমা ও বিভিন্ন গন্তব্য

পরের সপ্তাহে আমি পর পর দু’দিন দু’জন সিনিয়র প্যারামেডিকের সাথে মাঠ পরিদর্শনে যাই। হান্নান ভাইয়ের (কাল্পনিক নাম, আসল নাম ভুলে গেছি) সাথে মোটর সাইকেলে করে বন বাদাড় পেরিয়ে ভাদাইলসহ আরো একটি গ্রামে যাই – দুটি শিশু মৃত্যুর মৌখিক ময়না তদন্তের (Verbal Autopsy) জন্য। তখনও ডা. অভয় বাং –এর নবজাতকের মৃত্যুর কারণ বিষয়ে যুগান্তকারী গবেষণার ফল প্রকাশ হয়নি আর নবজাতকের অসুস্থতা বিষয়ে অনেকেরই ভাসা ভাসা জ্ঞান ছিল। স্বাস্থ্যকর্মীরা মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে হয়তোবা না বুঝেই ধনুষ্টংকার লিখে রাখত, যা আসলেই উদ্বেগজনক; কিংবা জন্ডিস লিখে রাখত। এই মৌখিক ময়না তদন্ত ছিল জনসাধারণের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতার প্রকাশ। দ্বিতীয়বার বাড়ি গিয়ে বিস্তারিত ইতিহাস নিয়ে প্রতীয়মান হতো প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর কারণ হয়তোবা জন্মকালিন শ্বাসরুদ্ধতা কিংবা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ।

১৯৭৩ সালেই নারী প্যারামেডিকরা সাভারের কর্ম এলাকার ঘরে ঘরে খাবার স্যালাইন (ORS) তৈরি করা শিখিয়ে দেয়া শুরু করেছিল। প্রকল্প এলাকায় ডায়রিয়ায় মৃত্যু তখন কমে এসেছে যা কিনা কর্মীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা আর নিরাপদ পানির সংস্থানের কারনে সম্ভব হয়েছিল। আমরা জানি ১৯৭৮ সালে বিখ্যাত “ল্যানসেট – The Lancet” জার্নালে বলা হল – “খাবার স্যালাইন চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।“ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইসিসিডিআর’বিকে সাথে নিয়ে দেশব্যাপী ব্র্যাকের খাবার স্যালাইন প্রকল্প শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে যা নব্বই দশকের শুরু পর্যন্ত চলেছিল। এখন সারা দেশেই খাবার স্যলাইন ব্যবহার কিংবা টিকাদান আমাদের কালচারের অংশ।

আরেকবার আমার সহযাত্রী হয়েছিল স্বাস্থ্যকর্মী শাহানারা, যে কিনা ধামসোনা ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকর্মীদের সুপারভাইজার ছিল। মূল কেন্দ্র থেকে ধামসোনা আর পাথালিয়া – এই দুটি ইউনিয়নে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। শাহানারা ফেরার পথে একটি মাদ্রাসায় থেমে মাদ্রাসার শিক্ষকের সাথে মাদ্রাসার সকলের জন্য স্বাস্থ্যবীমা পলিসি নেয়ার জন্যে তাগাদা দিয়েছিল বলে মনে পড়ে।

কমিউনিটির আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবীমার প্রচলনও ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই। এক্ষেত্রেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পথ প্রদর্শক। আর্থ-সামাজিক অবস্থার শ্রেণিবিভাগ ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আর্থ-সামাজিক অবস্থা সার্ভে ও ডেমোগ্রাফি বিবেচনা করে প্যারামেডিকরা শ্রেণি অনুযায়ী স্বাস্থ্যবীমা কার্ড ইস্যু করে।

১৯৭৩ সালে জনগোষ্ঠীকে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও ধনী এই তিন গ্রুপে বিভক্ত করে সাধারণ মানুষ যেন অল্প খরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়ে স্বাস্থ্যবীমার কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরিবার প্রতি ঔষধ ও ডাক্তারের পরামর্শ ফি বাবদ ‘মাসিক দুই টাকা’র স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হল। নব্বই সালে চার গ্রুপ – অতি দরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও ধনী; আর ২০০৩ সালে এসে পাঁচ গ্রুপ – নিঃস্ব , অতি দরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও ধনী; ২০১২ সালে এসে দাঁড়াল ৬টা গ্রুপে- নিঃস্ব, অতি দরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও ধনী। পরবর্তীতে আবারো সংস্কারের মাধ্যমে তা হয়ে দাঁড়াল – অতি দরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও ধনী। সমাজের শ্রেনীগুলো বাড়ছেই, শ্রেণিগুলোর মধ্যে ব্যবধানও বাড়ছে।

জিকের উপকারভোগিরা এখন ছড়িয়ে আছে চার ধরণের এলাকায়- ঢাকা শহর, শহরের কাছাকাছি, প্রত্যন্ত গ্রাম এবং চর এলাকা বা দ্বীপ। স্বাস্থ্যবীমাধারী যারা স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন তাঁদের শ্রেণি অনুসারে স্বাস্থ্যসেবার খরচ ও বার্ষিক প্রিমিয়াম দিতে হয়। একই মানের সেবার জন্য গরীবকে ন্যুনতম খরচ করতে হলেও ধনীকে বেশি খরচ করতে হয়। এভাবেই জিকে স্বাস্থ্যসেবায় সমতার ধারণা নিয়ে এসেছে। যদিও ধনীদের বীমা গ্রহণের হার খুবই কম, জিকে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য কখনোই মানসম্পন্ন সেবার দ্বার সংকুচিত করেনি।

স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রশিক্ষণ শেষে গ্রামের আকৃতিভেদে এক থেকে তিনটি গ্রামের দায়িত্ব পেত; গড়পড়তা হাজার খানেক পরিবার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসব পূর্ব ও প্রসব পরবর্তী সেবা, রক্তচাপ মাপা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, টিকা দেয়া, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়া, রোগি রেফার করা – এসব কাজ করত। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্যারামেডিকরা হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর, প্যাথলজি, অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে কিংবা দন্তরোগ বিভাগে পর্যায়ক্রমে কাজ করত। এর মধ্য থেকে হয়ত বনানী কিংবা হজরত আলী প্যাথলজিতে ‘মাস্টার’ হয়ে গেল; তখন তাকেই ওই বিভাগের ইনচার্জ করে দেয়া হত। এক্স-রে বিভাগে ছিলেন জলিল ভাই আর শাহিদা।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একটা চিঠি কিভাবে ভাঁজ করতে হয় সেই প্রশিক্ষণও দেয়া হত।

আট থেকে দশ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখাশুনা করত একজন সুপারভাইজার। মূল কেন্দ্রের অধীন ধামসোনা আর পাথালিয়ার কর্মীরা সন্ধ্যায় সুপারভাইজারের সাথে বসত। আমরা মূল কেন্দ্র থেকে শিমুলিয়া, জরুন, পানিশাইল, মিরেরচানগাও আর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ‘ক্লিনিক ডে’-তে রোগি দেখতে যেতাম। এই কেন্দ্রগুলোতে ছিল স্বতন্ত্র সুপারভাইজার। শিমুলিয়ার ফজলু ভাই, জরুনের বশির ভাই, পানিশাইলের হারুন কিংবা মিরেরচানগাওয়ের আবুল ভাই ছিলেন সিনিয়র প্যারামেডিক ও ইনচার্জ।

সাভার অঞ্চলের বাইরে সে সময়ে শেরপুরের ভাতশালা, ভোলার চর ফ্যাশন, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, পাবনার কাশিনাথপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর সিরাজগঞ্জে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কার্যক্রম ছিল। যেহেতু গণস্বাস্থ্য বিশ্বাস করত শুধু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করলেই মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে না, পাশাপাশি আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির সাথেও এই কেন্দ্রগুলো যুক্ত ছিল। দুর্যোগে গণস্বাস্থ্য মানুষের পাশে দাঁড়াত, ‘৯১ এর ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী লোনা পানি পাম্প করে দেয়া কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করে দেয়া জিকের একটা মাইলফলক। বিশেষ কোনো পর্যালোচনা সভা বা বাজেট সভায় এই কেন্দ্রগুলোর প্রধানরা জিকের মূল কেন্দ্রে আসতেন; মনে পড়ে সিরাজগঞ্জ থেকে শিশির ভাই, ভোলা থেকে ডা. রেজা ভাই, শ্রীপুরের রহমান ভাই, কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যাদি সভা উপলক্ষে আসতেন। ততদিনে ঢাকায় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ও আরবান কর্মসূচি চালু হয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অনেক প্যারামেডিক আমৃত্যু সেখানেই কাজ করে যান, অনেকেই অন্য এনজিওতে চাকুরির সুযোগ পেলে চলে যান। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ‘সিম্পল লিভিং’ আর ‘হাই থিঙ্কিং’ হয়ত অনেকেই সারা জীবনের জন্য নিজের ক্ষেত্রে মেনে নিতে পারতেন না। নূরজাহানের কথা মনে পড়ে, মুখে তার বসন্তের দাগ ছিল। সে একবার জাফর ভাইকে হুমকি দিয়েছিল, “আমাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ান; নইলে কিন্তু রপ্তানী খোলা আছে!”

‘রপ্তানী’ হচ্ছে সাভার ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল), যেখানে বিভিন্ন কোরিয়ান বা চাইনিজ কোম্পানীর জন্য তখন প্রচুর ডাক্তার ও প্যারামেডিক প্রয়োজন হচ্ছিল। আমি নিজেই একবার স্বপন ভাইয়ের সাথে ইপিজেডের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দেখতে গিয়েছিলাম, কিন্তু রপ্তানি হইনি! খুকু নামের একজন চৌকস স্বাস্থ্যকর্মী চলে গেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে। আমার প্রথম ব্যাচের ছাত্র জনাব আলীকে দেখেছি কক্সবাজার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বড় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে, প্রথম ব্যাচের এক ছাত্রীকে পেয়েছিলাম ঢাকার খিলগাঁয়ের সুর্যের হাসি ক্লিনিকে কাজ করতে। আবার মণিমালার মতো প্যারামেডিকরা চাকুরি ছেড়ে কোনো একটি উপকেন্দ্রের কাছাকাছি স্বাধীন ধাত্রী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করল ঐ কেন্দ্রের প্যারামেডিকদের মাথায় বিষ ফোঁড়া হয়ে!

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে গ্রামের ধাত্রীদের কিছু প্রশিক্ষণ দেয়া হত, যেন তাঁরা গর্ভবতীর জন্য ক্ষতিকর প্র্যাকটিসগুলো বাদ দেন, যাতে মায়েদের প্রসবকালীন ঝুঁকিগুলো কমে যায়। সে সময়ে বাড়িতে প্রসবের হার এত বেশি ছিল যে গ্রাম্য ধাত্রীদের উপর নির্ভর না করেও উপায় ছিল না। তখন মায়েদের মৃত্যুর বড় কারণ ছিল গ্রাম্য ডাক্তারদের হাতে প্রসব ব্যথা বাড়ানোর জন্য বিশেষ একটি ইনজেকশনের অসঙ্গত ব্যবহারের ফলে প্রসবকালীন জটিলতা ও রক্তক্ষরণ। জিকের স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকেরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে হাতুড়েদের বিরুদ্ধে ইনকিলাব করে গেছেন। অজ্ঞতার কারণে কিংবা স্বাস্থ্যকে সেবা হিসেবে না দেখে পণ্য হিসেবে দেখে বলে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই অপ্রয়োজনে এই ইঞ্জেকশনের ব্যবহার এখনো বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে আশংকাজনক পর্যায়ে আছে।

আমি দু’বছর গণস্বাস্থ্যে কাজ করে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসুচিতে যোগ দিই। ব্র্যাকে এসে গণস্বাস্থ্যের অনেক স্বাস্থ্যকর্মীকেই সহকর্মী হিসেবে পাই। ত্রিশালের বৈলর সুস্বাস্থ্যে পেয়েছিলাম প্যাথলজির কর্মী বনানীকে, প্যারামেডিক রোকসানাকে (সে আবার প্রসূতি সেবা এবং প্যাথলজিও জানত)। প্যারামেডিক মাসরিন এল শ্রীপুর সুস্বাস্থ্য থেকে বদলি হয়ে; ময়মনসিংহ শহরের বাউন্ডারি রোডের আপগ্রেডেড সুস্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিয়ে আসার পরে পেলাম নাসিমা আর অঞ্জনাকে; ওরা অপারেশন থিয়েটারে নিপুনভাবে কাজ করে গেছে। ব্র্যাকে যোগ দিয়েছিলাম ‘৯৮ এর বন্যার সময় ঢাকার আরবান স্বাস্থ্য কর্মসুচিতে; এরপরে মুক্তাগাছার চেচুয়াতে সুস্বাস্থ্যের প্রথম পোস্টিং হল; জয়েন করেছিলাম প্রাক্তন গণস্বাস্থ্য কর্মী ডা. আহাদ ভাইয়ের কাছে এবং স্থলাভিষিক্ত হলাম প্রাক্তন গণস্বাস্থ্য কর্মী ডা. শফিক ভাইয়ের, যিনি দীর্ঘ সময় মোটর সাইকেল চালানোর লোভে ব্র্যাকে যোগ দিয়েছিলেন! ডা. আলাউদ্দিনও তার সাথেই গণস্বাস্থ্য ছেড়ে ব্র্যাকে চলে এসেছিলেন। জিকের কোনো কোনো প্যারামেডিক কিছুদিন কেয়ারের কোনো প্রকল্পে কাজ করে আবারও জিকেতেই ফিরে এসেছে।

আমরা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসে বিসিএস পরীক্ষারও প্রস্তুতি নিতাম; ডা. মেজবাহ চলে গেল সরকারী চাকুরিতে। এ বছরের (২০২০) শুরুতে হৃদরোগে মারা যাওয়া ডা. নজরুল সরকারী চাকুরিতে ছিল, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে তার সাথে দেখা হয়। ডা. মনোয়ার এবং ডা. কফিল ভাইকে ব্র্যাকে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে পেয়েছি। তারিক ভাই চলে গেলেন কেয়ারের ‘নিরাপদ মা কর্মসূচি’ হয়ে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্সেনিক প্রজেক্টে, ইকবাল ভাই একবার লম্বা বার্ষিক ছুটি নিয়ে আইসিডিডিআর’বির প্রকল্পে যোগ দিয়ে এলেন। স্বপন ভাই সম্ভবত টাংগাইলে নিজস্ব ক্লিনিক চালু করে চলে গেলেন। ডা. মুকিদের মতো অনেকেই প্রবাসী হয়েছেন, অনেকে গণস্বাস্থ্যেই বড় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে গেছেন।

সিনিয়র স্বাস্থ্যকর্মী মোসলেম ভাইয়ের কথা আলাদা করে বলব। তিনি ছিলেন এক অনবদ্য স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষক; ডা. তারিক ভাইও তার ক্লাসের ভক্ত ছিলেন। সেই মোসলেম ভাই একদিন হঠাৎ তার শান্তি নিকেতনী ঝোলা নিয়ে (যার ভিতরে অন্তত এক প্যাকেট গ্লুকোজ বিস্কুট আর এক বোতল পানি থাকার কথা) বৈলর সুস্বাস্থ্যের প্যাথলজি ল্যাব দেখতে এলেন। ব্র্যাক তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিল সারা দেশের ল্যাবগুলো দেখাশোনা আর ল্যাব টেকনিশিয়ানদের কারিগরি সহযোগিতার দায়িত্ব দিয়ে। তিনি যন্ত্রপাতির ব্যাপারেও এত ভাল বুঝতেন দেখে অবাক লাগত। তিনি পরবর্তীতে ব্র্যাক – আফগানিস্তানে চাকুরি নিয়ে যান।

মূলত: মোরশেদ ভাই গণস্বাস্থ্য ছেড়ে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরামর্শক হিসেবে চলে আসার পরেই কর্মীদের ব্র্যাকমুখী হবার প্রবণতা দেখা যায়। অবশ্য তিনি ব্র্যাকে বেশিদিন থাকেননি।

নতুন কর্মস্থলে কিংবা কোনো প্রশিক্ষণ বা মিটিংয়ে প্রাক্তন গণস্বাস্থ্য কর্মীদের দেখা হওয়া বা সহকর্মী হিসেবে ফিরে পাওয়া আনন্দময় অভিজ্ঞতা ছিল, “কমিউনিটি লিভিং” পরস্পরের জন্য যে আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা গড়ে দেয় – এটা তারই চাক্ষুস প্রমাণ।

লেখক – ডা. মোশতাক আহমদ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কবি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করছেন।

(চলবে…)

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =

Back to top button