খেলাধুলাফুটবল

আবারও শীর্ষস্থানে রিয়াল

স্প্যানিশ লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ যেন ইঁদুর-বিড়াল খেলায় মেতেছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকার লড়াইয়ে এই দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট।

একদিন আগে সেল্টা ভিগোর কাছে পয়েন্ট হারিয়েছিল বার্সেলোনা। আর তাই হিসাব ছিল, এই ম্যাচ জিতলেই বার্সা থেকে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে যাবে রিয়াল।

আসলে হয়েছেও তাই, গত রাতের ম্যাচটি জিতে নিয়েছে রিয়াল। ফলে বার্সা থেকে দুই পয়েন্ট বেশি নিয়ে লা লিগার শীর্ষে উঠে এলো জিদানের দল।

রবিবার রাতে কাতালান শহরে বার্সেলোনার নগরপ্রতিদ্বন্দী এস্পানিওলের বিপক্ষে ০-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে বার্সেলোনা সমর্থকদের আশা ছিল ম্যাচটি অন্ততপক্ষে ড্র হলেও পয়েন্ট ব্যবধান বাড়বে না। কিন্তু তাদের আশা পূর্ণ হতে দিল না জিদানের শিষ্যরা।

ম্যাচটি জেতার জন্য ভিন্ন কৌশল নেন কোচ জিদান। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মদ্রিচকে এদিন একাদশেই রাখলেন না তিনি। তার অনুপস্থিতিতে ইস্কোকে দায়িত্ব দিলেন মধ্যমাঠ সামলানোর। অন্যদিকে এই মৌসুমেই তিন কোচকে ছাঁটাই করে ৪র্থ কোচের অধীনে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে এস্পানিওল।

শুরু থেকে দুর্দান্ত খেললেও গোলের জন্য রিয়ালকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রথমার্ধের শেষ মিনিট অবধি। স্বাগতিকদের ডিফেন্ডার বার্নার্দো এসপিনোসার দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে করিম বেনজেমার বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাক-হিল পাস থেকে ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করে লস ব্লাঙ্কোসদের এগিয়ে দেন কাসেমিরো।

এর আগেও অবশ্য গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোকে। কিন্তু তাকে আশাহত করেছিলেন এস্পানিওলের স্প্যানিশ গোলরক্ষক দিয়াগো লোপেজ। গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে আক্রমণে আসে স্বাগতিকরাও। কিন্তু তাদের পাঁচটি দুর্দান্ত শট সেভ করেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবু কোর্তোয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে এস্পানিওল। তবে রিয়াল বলের পজিশন ধরে রাখলেও বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত আক্রমণ করে রিয়ালের রক্ষণে ভয় দেখান রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক স্ট্রাইকার এবং বর্তমান এস্পানিওল স্ট্রাইকার রাউল ডে থমাস। এদিন রক্ষণে যেন পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামেন সার্জিও রামোস এবং রাফায়েল ভারান। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে এস্পানিওল ফরোয়ার্ডদের তেমন সুযোগই দেয়নি তারা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ গোলের জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

পুরো ম্যাচ জুড়েই দুর্দান্ত খেলে এস্পানিওল, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রিয়ালের দখলে। প্রায় ৬৯ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদেরই। অবশ্য কেবল বল পায়ে রেখেই আধিপত্য বিস্তার করেনি জিদানের শিষ্যরা। সেই সঙ্গে এস্পানিওলের গোলপোস্টে ১৪টি শটও নিয়েছে বেনজেমা-হ্যাজার্ডরা।

এই জয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে জিদানের শিষ্যরা। তার জন্য বাকি ছয় ম্যাচের প্রত্যেকটিতে জিততে হবে অথবা পাঁচ জয়ের পাশাপাশি একটি ড্র হলেও চ্যাম্পিয়ন হবে রিয়াল। সে রকম হলেই ২০১২ সালে পর লা লিগা শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে দলটি।

লিগের ৩২ ম্যাচ শেষে ২১ জয়, ৮ ড্র এবং ৩ হারে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২১ জয়, ৬ ড্র এবং ৫ হারে রিয়াল থেকে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বার্সেলোনা।

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 16 =

Back to top button