করোনাভাইরাসবিবিধ

লকডাউনে অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়ে ১২০০ কিমি পথ পাড়ি

অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়ে টানা সাত দিন ১২০০ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়েছেন ১৫ বছরের কিশোরী জয়তী কুমারী। ভারতে জারি লকডাউনে  ‍দিল্লির পার্শবর্তী গুরুগাঁয়ে আটকে পড়ার পর সেখানে থেকে সাইকেলের পেছনে বাবাকে বসিয়ে বিহারে নিজের বাড়ি ফিরেছেন তারা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়ে বলা হচ্ছে, কিশোরী জয়তী যে সাতদিন অসুস্থ বাবাকে নিয়ে নিজ বাড়ির পথে সাইকেলে প্যাডেল চালিয়েছেন, এরমধ্যে দুইদিন তারা ছিলেন না খেয়ে। ক্ষুধার্থ হলেও অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়া তাকে আটকাতে পারেনি কোনোভাবেই।

জয়তীদের বাড়ি বিহারে। তার বাবা গুরুগাঁয়ে রিকশা চালাতেন। সেখান থেকে অর্জিত টাকা তিনি বাড়িতে পাঠালে তাই দিয়ে চলে সংসার। কিন্তু গত মার্চে তার বাবা মোহন পেশওয়ান এক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপর বাবাকে নিতে সেখানে গিয়ে আচমকা লকডাউনে আটকে পড়েন জয়তী।

গত ২৫ মার্চ কোনো পূর্ব ঘোষণা না দিয়েই আচমকা মোদি সরকার দেশজুড়ে লকাডাউন ঘোষণা করলে দেশটির কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিক (এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করা মানুষ) আটকা পড়েন। কাজ না পেয়ে না খেয়েই হেঁটে হেঁটে বাড়ির ফেরার অসংখ্য খবর আসতে শুরু করে।

লকডাউনে বাবার সঙ্গে থেকে যেতে বাধ্য হয় জয়তী। কোনো কাজ নেই, অর্থ নেই, খাবারও নেই তার ওপর তার বাবা যেখানে থাকতেন তার মালিক ভাড়া না পেয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করেন। না খেয়ে থাকতে থাকতে অবশেষে সাইকেলে করে এভাবেই বাড়ির পথে রওয়ানা দেন তারা।

মোহন পেশওয়ান বলেন, ‘কিছু টাকা ছিল। ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে তাই দিয়ে খাবার কিনতাম। মেয়েসহ একবেলা খেতে পারতাম। কিন্তু বাড়িওয়ালা টাকার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। আমি তাকে বলি যে, লকডাউন তুলে নেওয়া হলে আমি তার সব বকেয়া পরিশোধ করবো। কিন্তু তিনি তা মানছিলেন না।’

বিহারের গ্রামে জয়তীয় আরও ভাইবোনকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তার মা। তিনিও দিনমজুরের কাজ করতেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ। তার ওপর জয়তীর বাবা দুর্ঘটনায় আহত। তাই তিনি নিজের কাছে থাকা কিছু গহনা বিক্রি করে সেই টাকা পাঠিয়েছিলেন স্বামীর চিকিৎসার জন্য।

লকডাউনে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বিদেশ-বিভূঁইয়ে এমন করে পরে থাকার পর জয়তী সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরবেন। সঙ্গে বাবাকে নিয়েই। তাই কিছু টাকা এর ওর কাছ থেকে ধার করে কম টাকায় একটা সাইকেল কেনেন। কিন্ত মেয়ের এমন কথা শোনার পর বাবা প্রথম দিকে তাতে বাধা দেন।

বাড়ির দূরত্বের কথা মাথায় রেখে তিনি মেয়েকে এমনটা না করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মানতে হয় তাকে। বাবাকে রাজি করানোর পর জয়তী সাইকেলের পেছনে তাকে বসিয়ে টানা সাতদিন ১২শ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন তারা।ৎ

এই খবর শোনার পর ভারতীয় সাইক্লিং ফেডারেশন থেকে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশে আগামী মাসে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর তাতে যাদি শেষ পর্যন্ত টিকে যায় তাহলে হয়তো দিনমজুর বাবার আয়ে চলা তাদের কষ্টের সংসার কিছুটা হলেও সুখের আভাস মিলবে। সূত্র জাগো

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =

Back to top button