কর্পোরেটসাক্ষাৎকার

ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকাই বেশি চ্যালেঞ্জিং

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান অবস্থা, আগামীর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের এমডি ও সিইও আবু জাফর মো. সালেহ্ কথা বলেন সাংবাদিক জিয়াদুল ইসলামের সাথে।

ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঢালাওভাবে অর্থায়ন করতে পারে না। শুধু শরিয়াহসম্মত পদ্ধতি ও প্রজেক্টে অর্থায়ন করতে পারে। আবার এখানে টাকার বিনিময়ে টাকার লেনদেন করা হয় না। এ কারণে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘কলমানি মার্কেট’ থেকে প্রতিযোগিতামূলক মুনাফায় টাকা বা আমানত নিতে পারে না। এতে প্রচলিত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত সংগ্রহে বেশ পিছিয়ে থাকে। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়াতে গ্রাহক থেকে আমানত সংগ্রহে ব্যাংক থেকেও বেশি মুনাফা দিতে হয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গ্রাহক থেকে মুনাফা নিতে হয় বেশি। এ ধরনের সীমাবদ্ধতা কনভেনশনাল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেই। এ জন্য শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি আন্ত বাজার সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ্।

উল্লেখ্য, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড প্রথম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে দেশ সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী শরিয়াহ পরিপালনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভসহ চারটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এর পর থেকে দ্রুতই ইসলামী ব্যাংকিংয়েরর বিকাশ ঘটেছে। অল্প সময়েই সব শ্রেণির গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এ ব্যবস্থা। যে কারণে তিন দশকের মধ্যে দেশে আটটি পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে অনেক কনভেনশনাল ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকিং শাখা বা উইন্ডো খুলে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অবদান এখন অনস্বীকার্য এবং মোট ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট ডিপোজিটের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অংশগ্রহণ ২৩.৬৬ শতাংশ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২৪.১৬ শতাংশ। দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অবদান ইসলামী ব্যাংকিংয়ের।

তাঁর মতে, শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকিং আজ সবচেয়ে অগ্রসরমাণ শিল্প। বিশ্বব্যাপী এক সমুজ্জ্বল বাস্তবতার নাম ইসলামী ব্যাংকিং। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই নয়, লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, ফ্রাংকফুট, সিঙ্গাপুর, টোকিও ও টরন্টোর মতো প্রধান ও প্রসিদ্ধ শহরগুলো তথা প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থার কেন্দ্রগুলোতে ইসলামী অর্থায়ন মডেল দারুণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এখন প্রায় ৭৫টি ছয় শতাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠনে ইসলামী ব্যাংকিং অনুশীলিত হচ্ছে।

সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার। ইসলামিক ফাইন্যান্সের এমডি আশা করছেন ২০২০ সাল নাগাদ এই সম্পদ ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই বাস্তবতার নিরিখে বিশ্বের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে বিনিয়োগের ওপর আরোপিত মুনাফায় চক্রবৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। এতে কনভেনশনাল ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুনাফা লাভে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিনিয়োগ পদ্ধতি যদি বাই-মুয়াজ্জাল বা বাকিতে পণ্য বিক্রয়ের বিষয় হয় সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত পণ্যের জন্য একটা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে গ্রাহক তা পরিশোধ করতে না পারলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিক্রয়মূল্যের অতিরিক্ত কোনো মুনাফা গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করতে পারে না। তবে ক্ষতিপূরণস্বরূপ কিছু আদায় করতে পারে। কিন্তু সেটাও কম্পানির মূল আয়ে নেওয়া যায় না। জনকল্যাণমূলক কাজে সেটা ব্যয় করতে হয়।

 

আরও জানুনঃ ধর্ম ও জীবন , ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ

Tag: Islamic bank news, news on Islamic bank

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + 16 =

Back to top button