ফ্যাশন

হালিমা আদেনঃ বিশ্বের প্রথাবিরোধী প্রথম হিজাবী সুপারমডেল

হালিমা আদেন হচ্ছেন প্রথম হিজাবী সুপারমডেল, এবং গত বছর তিনি ক্যাটওয়াকে হাঁটা ছেড়ে দেন।  কারণ, এই আশায় যেন অন্য মুসলিম নারীদেরকে তাদের ধর্মবিশ্বাস আর কাজের মধ্যে কোন একটিকে বেছে নেবার মত কঠিন কাজটি না করতে হয়।

তিনি বলেন, “আমি চাই মেয়েরা জানুক যে, হালিমা তাদের সবার জন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি আমার কেরিয়ার ত্যাগ করেছি, যাতে তারা যে কোন জায়গায় কথা বলতে জড়তা বোধ না করে।”

আর এখন ফ্যাশন জগতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পথ খুঁজছে, যাতে হালিমাকে যে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তা যেন অন্য মুসলিম মডেলদের ক্ষেত্রে না হয়।

ডিজাইনার টমি হিলফিগার বলছেন, “আমার মনে হয় ফ্যাশন শিল্পের জন্য এটা একটা বার্তা, যে তাদের জেগে উঠতে হবে। কারণ আমার মনে হয় অন্য ব্র্যাণ্ড এবং ডিজাইনাররা বলছিল, আমরা কী কোন ভুল করলাম?”

হালিমা বলেন, “আমার হিজাব ছোট হয়ে আসছিল। আমি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিলাম যেখানে আমি নিজেকে যেভাবে দেখি তার থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছিলাম। আমার হিজাব ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।”

হালিমা বলেছিলেন, “একবার আমি একটা শুটিং করছিলাম সেখানে আরেকটি মুসলিম মেয়ে ছিল যে হিজাব পরতো। ওরা আমাকে আমার পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা একটা কুঠরি দিল, কিন্তু ওই মেয়েটিকে বললো, একটা বাথরুমে গিয়ে পোশাক বদলাতে। তো যখন আমি দেখলাম যে আমাদের প্রতি সমান আচরণ করা হচ্ছে না, সেটা আমার একেবারেই ভালো লাগেনি।”

ফ্যাশন জগতে বহু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে টমি হিলফিগার ২০২০ সালে দেড় কোটি ডলার দেবার অঙ্গীকার করেছিলেন। প্যারিস ফ্যাশন উইকের সময় তিনিই হালিমাকে প্রথম ক্যাটওয়াকে তোলেন।

স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড ম্যাগাজিনে হালিমা আদেনই প্রথম মডেল হিসেবে বুরকিনি পরেছিলেন। শুধুমাত্র তার জন্য এই সুইমস্যুট বানিয়েছিলেন টমি হিলফিগার।

ফ্রান্সের মত কিছু দেশে পাবলিক সুইমিংপুলে এবং সমুদ্রসৈকতে এই বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হয়। কাজেই স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডের ওই সুইমস্যুট প্রকাশের মধ্যে দিয়ে নিশ্চিতভাবেই একটা বার্তা দেয়া হয়েছিলো। তবে এই সীমাবদ্ধতা ভাঙা এবং বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ সরল ছিল না।

হালিমা বলেন, “লোকে অসন্তুষ্ট হয়েছে। আমার মনে হতো আমি যেন একটা খুব সরু দড়ির ওপর হাঁটছি, এবং কখনো কখনো মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকরাও আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছে। আমি বহু মন্তব্য শুনেছি যেগুলো ছিল এই রকম – ‘বুরকিনি পোশাকটায় শরীরের গঠন খুব বেশি ফুটে ওঠে’। তবে অনেক অল্পবয়েসী মেয়ে সবসময় আমাকে মেসেজ পাঠাতো, ‘আমরা তোমাকে ব্যতিক্রমী চেহারায় দেখতে চাই। আমরা তোমার স্কার্ফ পরা দেখতে চাই।’ এটা ছিল খুব সরু একটা দড়ির ওপর হাঁটার মতো।”

আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনগুলোর প্রচ্ছদে ২০২০ সালে অর্ধেকের সামান কম মডেল ছিল অ-শ্বেতাঙ্গ। তার আগের বছরের তুলনায় এ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১২ শতাংশ। তবে পর্দার পেছনে কিন্তু এ বৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা যায়নি। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০টি ফ্যাশন ডিজাইনের চাকরির মধ্যে একটিরও কম চাকরি পাচ্ছে অ-শ্বেতাঙ্গরা ।

হালিমা আদেন নিজেকে গর্বিত মনে করেন। তিনি শালীন ফ্যাশনকে বৈশ্বিক দর্শকের সামনে নিয়ে এসেছেন, এবং এমন একজন রোলমডেল হয়ে উঠতে পেরেছেন যাকে হিজাব পরিহিত মেয়েরা আদর্শ হিসেবে মানতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =

Back to top button