Breakingপ্যারেন্টিং

সন্তানকে আদর্শবান রূপে গড়ে তোলা মা-বাবার দায়িত্ব

মহান প্রভু কোরআনে কারিমে ঘোষণা করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ সুরা তাহরিম, আয়াত ৬।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াতে এবং মহানবী (সা.) অগণিত হাদিসের মাধ্যমে সন্তানকে সুশিক্ষা প্রদান ও আদর্শবান নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা প্রত্যেক মা-বাবার ওপর আবশ্যক করে দিয়েছেন।

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সবাই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ বুখারি। তিনি আরও বলেন, ‘পিতা তার সন্তানকে শিষ্টাচার অপেক্ষা উত্তম কিছু শিক্ষা দিতে পারে না।’ তিরমিজি।

সন্তান-সন্ততি কেবল পার্থিব অবলম্বনই নয়, বরং পরকালের শ্রেষ্ঠ সম্বলও। আল্লাহতায়ালা কোরআনে ফরমান, ‘ধনৈশ্বর্য ও সন্তান সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্য উত্তম।’ সুরা কাহাফ, আয়াত ৪৬।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি আমল ছাড়া সব বন্ধ হয়ে যায়। সাদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ মুসলিম।

মানব জাতির হেদায়াতের লক্ষ্যে আল্লাহতায়ালা কোরআন অবতরণ করেছেন। তাতে সন্তান লালনপালনের পর্যাপ্ত নির্দেশনা রয়েছে। এ মহাগ্রন্থে স্থান পেয়েছে সন্তানের প্রতি বিশ্ববরেণ্য মনীষীদের উপদেশ প্রদানের বিস্ময়কর উদাহরণ।

সন্তানের প্রতি হজরত লুকমান (আ.)-এর উপদেশের বিস্তারিত বিবরণসংবলিত সুরা লুকমান নামে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা একটি সুরা নাজিল করেছেন। যোগ্য উত্তরসূরী গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিবার।

পরিবারের দায়িত্বশীলদের থেকেই সন্তান শিখতে শুরু করে। সন্তানের চরিত্র পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠে। কাউকে সম্মান করা, সততা অবলম্বন করা ইত্যাদি পরিবারের কর্তাদের কাছ থেকেই শেখে। পারিবারিক শিক্ষা সন্তানের ওপর পিরামিডের মতো স্থায়ী হয়। এর ওপর ভিত্তি হয় তার পরিবর্তী জীবন।

সন্তান জন্মের পর থেকেই সন্তানের যাবতীয় দায়িত্ব মা-বাবার ওপর অর্পিত হয়। বিশেষ করে সন্তানের বাল্যকাল, কিশোর ও যৌবনকালে মা-বাবার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।

চলমান বিশ্বে শিশু-কিশোরদের লক্ষ্যচ্যুত করার উপকরণ অনেক। বিভিন্ন অপরাধী চক্র উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের জীবন বিপন্ন করার মদদ দিচ্ছে।

তাদের নেট নগ্নতায় জড়ানো এবং কথিত কিশোর গ্যাং ইত্যাদি অপরাধে সম্পৃক্ত করার পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। ফ্রি ফায়ার, পাবজি গেম, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ভাইরাল ও বিগো লাইভ ইত্যাদি ফাঁদে জড়িয়ে শিশু-কিশোররা নিজেদের জীবনকে তছনছ করে চলেছে।

পারিবারিক সম্প্রীতি, সভ্যতা সব হারিয়ে তারা নিজেদের জীবনকেও বিষময় করে তুলেছে। প্রাণহানি, আত্মহত্যা ও খুন-সন্ত্রাস ব্যাপকহারে ভাইরাল হচ্ছে।

বড় বড় শহরে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে কিশোরদের গ্যাং কালচার। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন শহর, পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + twenty =

Back to top button