Lead Newsধর্ম ও জীবন

রাসুলুল্লাহ্ সাঃ এর প্রিয় আমল

মানব জাতির সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁরও রয়েছে প্রিয় আমল। বিশ্বনবির আমলগুলো মুসলিম উম্মাহর জন্য পালন করা সুন্নাত। প্রিয় নবির প্রিয় আমলেই মিলবে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি। কিন্তু প্রিয় নবির প্রিয় আমল কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত প্রিয় আমলের মধ্যে অন্যতম একটি হলো মিসওয়াক করা। হাদিসে পাকে এসেছে, প্রিয় নবি ইরশাদ করেছেন-
السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ
মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা আর (আমার) রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান)

মিসওয়াক হলো ইসলামের উন্নত রুচি ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক। মিসওয়াক ইসলামের ১০টি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের একটি। হাদিসে পাকে এসেছে-
عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ
‘(ইসলামে) দশটি বিষয় স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। (তাহলো) মোচ খাটো করা, দাড়ি লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা…।’ (মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবির প্রিয় আমল ‘মিসওয়াক’ সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং মিসওয়াক করার মাধ্যমে নিয়মিত আমল করা। তাহলো-

মিসওয়াক কী?
মিসওয়াক হলো- ‘গাছের ডাল বা শিকড়’, দাঁতনরূপে ব্যবহৃত নিম-জয়তুন প্রভৃতি গাছের সুর বা ডাল। যা দিয়ে দাঁত মাজা ও পরিষ্কার করা হয়। দাঁত মাজাকেও মিসওয়াক বলা হয়।

মিসওয়াক কেন প্রিয় আমল?
বুখারি, নাসাঈ, মিশকাতসহ হাদিসের অনেক বিশুদ্ধ গ্রন্থে মিসওয়াককে মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম, আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি মিসওয়াক করার নির্দেশ পেয়েছেন মর্মেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাহলো-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এমনটি কখনো হয়নি যে, জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছেন আর আমাকে মিসওয়াক করার আদেশ দেননি। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, মিসওয়াকের কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে না ফেলি।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)

মিসওয়াক করতে হবে কী দিয়ে?
যেসব গাছের স্বাদ তিতাযুক্ত; সেসব গাছের ডাল বা মূল দিয়ে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। তা হতে পারে নিম বা জায়তুন। তবে জায়তুনের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম। মিসওয়ামের ডালা হাতের আঙ্গুলের মতো মোটা ও নরম হওয়া ভালো। আর তা লম্বায় হবে এক বিঘাত।

মিসওয়াক ধরবেন এবং করবেন কীভাবে?
বিখ্যাত সাহাবি হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মিসওয়াক ধরার ও করার এ নিয়মটি বর্ণনা করেছেন, তাহলো- ‘মিসওয়াক মুখের ডানদিক থেকে শুরু করা। ডান দিক থেকে প্রস্থ তথা উপর-নিচ করে মিসওয়াক করা। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী মিসওয়াকের নিচে থাকবে। আর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল মিসওয়াকের ওপর থাকবে। শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা মিসওয়াকের মাথা শক্তভাবে ধরে দাঁত মাজা।

মিসওয়াক করার সময়
দিন ও রাতের বিভিন্ন সময় মিসওয়াক করা যায়। ওলামায়ে কেরাম মিসওয়াক করার বিভিন্ন সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তাহলো-
১. অজুর আগে মিসওয়াক করা।
২. অজুতে কুলি করার আগে মিসওয়াক করা।
৩. নামাজের আগে মিসওয়াক করা।
৪. মধ্য রাতে ঘুম থেকে উঠলে মিসওয়াক করা।
৫. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর মিসওয়াক করা।
৬. কোনো মজলিসে যাওয়ার আগে মিসওয়াক করা।
৭. কোরআন-সুন্নাহর আলোচনা ও তেলাওয়াতের আগে মিসওয়াক করা মোস্তাহাব।
৮. জুমআর দিন গোসলের আগে মিসওয়াক করা। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ، وَسِوَاكٌ، وَيَمَسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ
জুমআর দিন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সে সুগন্ধিও ব্যবহার করবে।’ (মুসলিম)

মিসওয়াক করার উপকারিতা কী?
মিসওয়াক হলো প্রিয় নবির প্রিয় আমল। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় মিসওয়াক করার নির্দেশ এসেছে। রয়েছে অনেক ফজিলত ও উপকারিতা। তাহলো-
১. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেন, মিসওয়াকবিহীন নামাজের তুলনায় মিসওয়াক করে নামাজের ফজিলত সত্তরগুণ বেশি। (বায়হাকি)
২. মিসওয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়।
৩. মিসওয়াকে দারিদ্র্যতা দূর হয়। উপার্জন বাড়ে। সচ্ছলতা আসে।
৪. মিসওয়াকে পাকস্থলী ঠিক থাকে ও শরীর শক্তিশালী হয়। সুস্বাস্থ্য ও শক্তি সামর্থে্যর জন্য পাকস্থলী ঠিক থাকা জরুরি।
৫. স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয় এবং সৌন্দর্য বাড়ে। এ কারণেই জিবরিল আলাইহিস সালাম ওহি নিয়ে আসলেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি বেশি মিসওয়াক করার কথা বলতেন।
৬. মিসওয়াক করলে ফেরেশতারা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন; নামাজে বের হলে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
৭. প্রিয় নবির প্রিয় আমল মিসওয়াক করলে বিতাড়িত শয়তান খুবই অসন্তুষ্ট হয়।
৮. মিসওয়াককারী বিজলীর ন্যায় দ্রুত ফুলসিরাত পার হবেন এবং ডান হাতে আমলনামা পাবেন। আর দুনিয়াতেও ইবাদত-বন্দেগিতে শক্তি পাবেন।
৯. মিসওয়াককারী মৃত্যুর সময় ঈমানি মৃত্যু পেয়ে ধন্য হবেন। তার জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা দেওয়া হবে। মিসওয়াককারী পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবির প্রিয় আমল ‘মিসওয়াক’ বেশি বেশি করা। মিসওয়াকের উপকারিতা ও ফজিলত পেয়ে ধন্য হওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ধারিত সময়গুলোতে বেশি বেশি মিসওয়াক করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরও বেশি প্রিয় হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + three =

Back to top button