রাজনীতি

‘বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে আল্লাহকে নারাজ করবো নাকি’

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল স্থাপন ইসলামের চোখে মহাপাপ,” সে কারণে রাজশাহী সিটি গেটে জীবন দিয়ে হলেও বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল বসাতে না দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, অভিযুক্ত নির্দেশদাতা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কটূক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্যটি আলোচনার ঝড় তুলেছে। রবিবার (২১ নভেম্বর) রাত থেকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যাচ্ছে, মেয়র আব্বাস একজনকে বলছেন, “সিটি গেট আমার অংশে।. ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু ঠেকে গেছি গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে মুর‌্যালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরীয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুবো না, সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (মুর‌্যাল)।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেয় আওয়ামী লীগ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১০টায় কাটাখালি বাজারে এ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণার করেন পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক জহুরুল আলম রিপন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, দ্রুত মেয়র আব্বাস আলীকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।” এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মেয়র পদ থেকেও তাকে অপসারণ করার দাবি জানানো হবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে।

মেয়র আব্বাসের এ বক্তব্য ঘিরে রাজশাহীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন তিনি।

অডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে যেভাবে বুঝাইছে যে মুর‌্যালটা ঠিক হবে না দিলে; আমার পাপ হবে; তো কেন দিব না। আমিতো কানা না, যেভাবে বোঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে মুর‌্যালটা হলে আমার ভুল করা হবে। এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে; এই মুর‌্যাল দিত চেয়ে দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করবো নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষেকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তষ্ট করা যাবে না।”

কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য। তবে অডিওটি তার নয় বলে দাবি করে পুরো ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, “মুর‌্যাল করা যাবে না, মুর‌্যাল করলে পাপ হবে, এ ধরনের কথা আমার সঙ্গে কারও হয়নি।”

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার আওয়ামী লীগ করার অধিকার থাকে না। কাটাখালীর মেয়র বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি কোন কটূক্তি করে থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “মেয়র আব্বাস যদি এই ধরনের কথা বলেই থাকেন, তবে তিনি দলে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবে আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করবে এটা মেনে নেওয়া যাবে না।”

অপরদিকে মেয়র আব্বাসের অডিওটি ফাঁস হওয়ার পর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আব্বাসকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ফেসবুকে শুরু হয়েছে তোলপাড়। চলছে একের পর এক বিভিন্ন ধরনের পোস্ট।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ফেসবুকে আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ভাইকে অপমানজনক মন্তব্য করে এখনও আওয়ামী লীগ করে কীভাবে?…মাননীয় নেত্রী, এরকম অসংখ্য আব্বাস আওয়ামী লীগে বিদ্যমান। অভিযান শুরু করুন।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমানে রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক অরবিন্দ দত্তও।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর গত ৩ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শনের নোটিশ দেওয়া হয়। আর তাকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় গত ১৯ নভেম্বর।

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + one =

Back to top button