আক্রান্ত

৭০৭,৩৬২

সুস্থ

৫৯৭,২১৪

মৃত্যু

১০,০৮১

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৭১৪
  • বরগুনা ১,০০৮
  • বগুড়া ৯,২৪০
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৬১৯
  • ঢাকা ১৫০,৬২৯
  • দিনাজপুর ৪,২৯৫
  • ফেনী ২,১৮০
  • গাইবান্ধা ১,৪০৩
  • গাজীপুর ৬,৬৯৪
  • হবিগঞ্জ ১,৯৩৪
  • যশোর ৪,৫৪২
  • ঝালকাঠি ৮০৪
  • ঝিনাইদহ ২,২৪৫
  • জয়পুরহাট ১,২৫০
  • কুষ্টিয়া ৩,৭০৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২৮৩
  • মাদারিপুর ১,৫৯৯
  • মাগুরা ১,০৩২
  • মানিকগঞ্জ ১,৭১৩
  • মেহেরপুর ৭৩৯
  • মুন্সিগঞ্জ ৪,২৫১
  • নওগাঁ ১,৪৯৯
  • নারায়ণগঞ্জ ৮,২৯০
  • নরসিংদী ২,৭০১
  • নাটোর ১,১৬২
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮১১
  • নীলফামারী ১,২৮০
  • পঞ্চগড় ৭৫৩
  • রাজবাড়ী ৩,৩৫২
  • রাঙামাটি ১,০৯৮
  • রংপুর ৩,৮০৩
  • শরিয়তপুর ১,৮৫৪
  • শেরপুর ৫৪২
  • সিরাজগঞ্জ ২,৪৮৯
  • সিলেট ৮,৮৩৭
  • বান্দরবান ৮৭১
  • কুমিল্লা ৮,৮০৩
  • নেত্রকোণা ৮১৭
  • ঠাকুরগাঁও ১,৪৪২
  • বাগেরহাট ১,০৩২
  • কিশোরগঞ্জ ৩,৩৪১
  • বরিশাল ৪,৫৭১
  • চট্টগ্রাম ২৮,১১২
  • ভোলা ৯২৬
  • চাঁদপুর ২,৬০০
  • কক্সবাজার ৫,৬০৮
  • ফরিদপুর ৭,৯৮১
  • গোপালগঞ্জ ২,৯২৯
  • জামালপুর ১,৭৫৩
  • খাগড়াছড়ি ৭৭৩
  • খুলনা ৭,০২৭
  • নড়াইল ১,৫১১
  • কুড়িগ্রাম ৯৮৭
  • মৌলভীবাজার ১,৮৫৪
  • লালমনিরহাট ৯৪২
  • ময়মনসিংহ ৪,২৭৮
  • নোয়াখালী ৫,৪৫৫
  • পাবনা ১,৫৪৪
  • টাঙ্গাইল ৩,৬০১
  • পটুয়াখালী ১,৬৬০
  • পিরোজপুর ১,১৪৪
  • সাতক্ষীরা ১,১৪৭
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৯৫
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
ধর্ম ও জীবন

ইসলামে যিনা, ধর্ষণ, সমকামিতা মারাত্মক অপরাধ ও তার শাস্তির বিধান

ইসলামে দৃষ্টিতে যিনা, ধর্ষণ, সমকামিতা, অজাচার, পশুকাম সুস্পষ্ট হারাম ও শিরক এবং হত্যার পর বৃহত্তম অপরাধ।
পবিত্র আল কোরআনে আছে,

وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا

يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

অর্থ: ‘এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা: ফুরকান, ৬৮-৭০)।

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً

অর্থ: ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সূরা: ইসরা, আয়াত: ৩২)।

যিনা:

যিনা বা জিনা হলো অবিবাহিত দুইজন মানুষের মধ্যে যৌনক্রিয়া। ব্যুৎপত্তিগতভাবে: যিনা হলো ইসলামি বৈবাহিক নিয়ম অনুযায়ী পরস্পর অবিবাহিত একাধিক মুসলিমের মাঝে অবৈধ যৌন সম্পর্ক বিষয়ক একটি ইসলামি নিষেধাজ্ঞা।

বিবাহোত্তর যৌনতা এবং বিবাহপূর্ব যৌনতা, যেমন: পরকীয়া (পারস্পারিক সম্মতিতে বিবাহিতের অবৈবাহিক যৌন সম্পর্ক),ব্যভিচার (দুজন অবিবাহিতের পারস্পারিক সম্মতিতে যৌনসঙ্গম), সমকামিতা (সমলিঙ্গীয় ব্যক্তিদ্বয়ের পারস্পারিক সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক), অজাচার (পরিবারের সদস্য বা অবিবাহযোগ্য রক্তসম্পর্কের ব্যক্তির সঙ্গে যৌনসঙ্গম), পশুকামিতা (অমানব পশুর সঙ্গে যৌনসঙ্গম) এবং ধর্ষণ (জোরপূর্বক অবৈবাহিক যৌনসঙ্গম) এর অন্তর্ভুক্ত।

যিনা কবিরা গুনাহ যা তাওবাহ ব্যাতিরেকে মাফ হয় না। কোরআন শরিফে বলা হয়েছে, ‘লা তাকরাবুয যিনা’ যার অর্থ ‘তোমরা যিনার ধারে-কাছেও যেও না।’

ইসলামি শাস্ত্রলিপিসমূহ:

প্রাচীন অপসংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় ইসলামের প্রাথমিক যুগে একজন বিবাহিত বা অবিবাহিত মুসলিম পুরুষ তার নিজ মালিকানাধীন কোনো ক্রীতদাসীর সঙ্গে উক্ত ক্রীতদাসীর সম্মতিতে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন ক্রিয়াকলাপ করতে পারত এবং এ ধরনের যৌনতা জিনা হিসেবে গণ্য হত না। পরবর্তীকালে এই প্রচলন চিরকালীন রহিত করা হয়।

ইসলামে জিনা একটি হুদুদ আইনের শাস্তিযোগ্য পাপ অথবা আল্লাহর বিরুদ্ধাচারকারী একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কোরআন এবং হাদিসসমূহে এটি উল্লেখিত রয়েছে। কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, যেকোনো প্রকারের যৌন ক্রিয়াকলাপ যা বৈধ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ব্যতীত সম্পাদিত হয় সেগুলো জিনা বলে গণ্য হবে, এবং তা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য সমানভাবে শাস্তিযোগ্য। সমকামমূলক যৌনক্রিয়াও যিনা; কেননা ইসলামে দুজন সমলিঙ্গীয় মানুষের মধ্যে বিবাহ অনুমোদন নেই।

কোরআন:

কোরআনের বেশ কয়েকটি জায়গায় জিনা সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো কোরআনের সাধারণ নিয়ম যেখানে মুসলিমদের জিনায় লিপ্ত না হতে আদেশ দেয়া হয়েছে,

‘তোমরা জিনার ধারে কাছেও যেয়ো না। কারণ এটি একটি লজ্জাজনক ও নিকৃষ্ট কর্ম, যা অন্যান্য নিকৃষ্ট কর্মের পথ খুলে দেয়।’ (সূরা: ১৭ (আল-ইসরা/বনি ইস্রাঈল), আয়াত: ৩২)।

কোরআনে সর্বপ্রথম সূরা নিসায় জিনার শাস্তি সম্পর্কিত সাময়িক অস্থায়ী নির্দেশনা অবতীর্ণ করা হয়।

وَاللاَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمْ فَاسْتَشْهِدُواْ عَلَيْهِنَّ أَرْبَعةً مِّنكُمْ فَإِن شَهِدُواْ فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّىَ يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً

وَاللَّذَانَ يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ فَآذُوهُمَا فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُواْ عَنْهُمَا إِنَّ اللّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا

অর্থ: ‘আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ করে রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ নির্দেশ না করেন।

অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে দুজন সেই কুকর্মে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর, অতঃপর তারা যদি উভয়ে তওবা (অনুশোচনা,অনুতাপ) করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।’(সূরা: নিসা, আয়াত: ১৫-১৬)।

কিন্তু পরবর্তীতে সূরা নূরে নবায়িত নির্দেশনা অবতীর্ণ হওয়ার পর পূর্বোক্ত আয়াতের নির্দেশনা রহিত হয়ে যায়। এছাড়াও, অধিকাংশ নিয়মকানুন যেগুলো জিনা (ব্যভিচার/পরকীয়া), স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর ওপর বা সমাজের সদস্যগণ কর্তৃক সতী সাধ্বী নারীর ওপর আরোপিত অভিযোগ সম্পর্কিত, সেগুলো সূরা নূর (আলো) এ পাওয়া যায়।

এই সূরাটি শুরু হয়েছে জিনার শাস্তি সম্পর্কিত বেশ কিছু বিশেষ নির্দিষ্ট নিয়মকানুন প্রদানের মধ্য দিয়ে।

الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। (সূরা: ২৪ (আন-নুর), আয়াত: ২)।

কোরআনে আরো বলা হয়েছে,

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِن بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: ‘যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনোও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।’

অর্থ: ‘কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।’ (সূরা ২৪ (আন-নুর), আয়াত: ৪-৫)।

হাদিস:

কোরআনের পর ইসলামের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি উৎস হাদিসে জিনাকে সঙ্গায়িত করা হয়েছে সব প্রকারের বিবাহবহির্ভূত যৌনসঙ্গম হিসেবে।

আবূ হুরায়রা সুত্রে নবী মুহাম্মদ (সা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘আদম সন্তানের ওপর যিনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। দু-চোখের যিনা হলো (নিষিদ্ধ যৌনতার প্রতি) দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হলো শ্রবণ করা, রসনার যিনা হলো কথোপকথন করা, হাতের যিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হলো হেঁটে যাওযা, অন্তরের যিনা হচ্ছে আকাংখা ও কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ অবশেষে তা বাস্তবায়িত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।’
(সহিহ বুখারি, ৮: ৭৭:৬০৯ (ইংরেজি),সহিহ মুসলিম, ৩৩: ৬৪২১ (ইংরেজি)।

হাদিসে জিনার শাস্তির বর্ণনা এসেছে জনসম্মুখে বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড হিসেবে, এটি পাওয়া যায় মূলত হাদিসের ‘কিতাব-আল হুদুদ’ নামক সংকলিত খণ্ডাংশে।

‘উবাদা বিন আস-সামিত বর্ণনা করেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর। আল্লাহ সেসব নারীদের জন্য আদেশ জারি করেছেন। যখন একজন অবিবাহিত পুরুষ একজন অবিবাহিত নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তাদেরকে একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন পেতে হবে। আর বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে বিবাহিত নারীর ব্যভিচারের ক্ষেত্রে, তাদেরকে একশত বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে। (সহিহ মুসলিম, ১৭: ৪১৯১ (ইংরেজি)।

আল্লাহর রাসূল বিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদান করতেন এবং, তাঁর পরে, আমরাও পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদান করতাম, আমি ভয় করি যে কালের অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে, মানুষ হয়তোবা এটি ভুলে যাবে এবং হয়তো বলবে, আমরা আল্লাহর কিতাবে পাথর নিক্ষেপের শাস্তি খুঁজে পাইনি, এবং আল্লাহর নির্দেশিত এই কর্তব্য পরিত্যাগ করে বিপথে যাবে। পাথর নিক্ষেপ হলো আল্লাহর কিতাবে দেয়া ব্যভিচারী বিবাহিত পুরুষ ও নারীদের জন্য ধার্যকৃত একটি দায়িত্ব যখন তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়, অথবা যদি গর্ভধারণ ঘটে, অথবা যদি দোষ স্বীকার করা হয়। (সহিহ মুসলিম, ১৭: ৪১৯৪ (ইংরেজি)।

মা’য়িয নবীর কাছে এলো এবং তাঁর উপস্থিতিতে নিজের ব্যভিচার করার কথা চারবার স্বীকার করল, তাই নবী তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার আদেশ দিলেন। কিন্তু হুজ্জালকে বললেন, ‘তুমি যদি তাকে তোমার কাপড় দ্বারা ঢেকে দিতে, তাহলে তা তোমার জন্য ভাল হতো।’ (সুনান আবু দাউদ, ৩৮: ৪৩৬৪ (ইংরেজি)।

আরেক বিশুদ্ধ নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ সহিহ বুখারীতে কয়েকটি ঘটনা পাওয়া যায় যেখানে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ-

আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত: ‘উতবা বিন আবি ওয়াক্কাস তার ভাই সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে বললেন, ‘জা’মার দাসীর পুত্রটি আমার থেকে আগত, তাই একে তোমার তত্ত্বাবধানে রাখো।’ তাই মক্কা বিজয়ের বছরে, সা’দ তাকে নিয়ে নিলেন এবং বললেন, ‘(এ হলো) আমার ভাইয়ের পুত্র যাকে আমার ভাই আমার তত্ত্বাবধানে রাখতে বলেছেন।’ ‘আব্দ বিন জা’মা তার সামনে দাঁড়িয়ে গেলো এবং বললো, ‘(সে) আমার ভাই, আমার বাবার দাসীর পুত্র, এবং আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছিল।’ তাই তারা উভয়েই আল্লাহর রাসূলের (সা.) সামনে তাদের মোকাদ্দমা পেশ করলেন।
সা’দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই বালক আমার ভাইয়ের পুত্র আর তিনি একে আমার দায়িত্বে অর্পণ করেছেন।’ ‘আব্দ বিন জা’মা বলল, ‘এই বালক আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর ছেলে, এবং আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছিল।’ আল্লাহর রাসূল বললেন, ‘এই বালকটি তোমার, হে ‘আব্দ বিন জা’মা!’ এরপর আল্লাহর রাসূল আরো বললেন, ‘উক্ত সন্তানটি বিছানার মালিকের, এবং উক্ত ব্যভিচারকারীকে পাথর নিক্ষেপ করা হোক।’

যখন তিনি উতবার সঙ্গে বাচ্চাটির সাদৃশ্য দেখলেন, তখন সাওদা বিন জা’মাকে বললেন, ‘তোমার পর্দা তার সামনে নামিয়ে দাও।’ বালকটি মৃত্যুর পূর্বে আর কখনোই ওই নারীকে দেখতে পায়নি।
(সহিহ বুখারি, ৯:৮৯: ২৯৩ (ইংরেজি)।

পুরুষ ও নারীর মধ্যে জিনা সম্পর্কিত আরো যেসব হাদিস রয়েছে সেগুলো হলো:

> অবৈধ যৌন কর্মে লিপ্ত হওয়ার জন্য এক ইহুদি নারীকে পাথর নিক্ষেপ (রজম)।

> আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন যে নবীজি (সা.) একজন যুবক এবং একজন বিবাহিত নারীর দৈহিক মিলনের অভিযোগে নারীটিকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ দিলেন এবং যুবকটিকে চাবুক মারতে ও এক বছরের জন্য নির্বাসন দিতে নির্দেশ দিলেন।

> ওমর ইবন আল-খাত্তাব নিশ্চিত করেন যে, একটি নির্দেশ নাজিল হয়েছিল এই বিষয়ে যে, কোনো মুহসান ব্যক্তি (একজন প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, মুসলিম যে পূর্বে বৈধভাবে বৈবাহিক যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছে, এবং তার বিবাহ এখনো নিশ্চিতভাবে বহাল রয়েছে) যদি অবৈধ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হবে।

ধর্ষণ:

আরবি ভাষায়, ইগতিসাব (বলপূর্বক কোনো কিছু আদায় করা) বা জিনা-আল-জিবর শব্দটি ধর্ষণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইসলাম ধর্ষণ বা বলপূর্বক যৌন হয়রানিকে অনুমোদন করে না। এ সম্পর্কে আবু দাউদে নবী মুহাম্মাদের সময়কালের একটি ঘটনা এবং মুয়াত্তা ইমাম মালিক গ্রন্থে প্রাথমিক সময়ের দুজন খলিফার দুটি বিচারকার্যের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হল-

আলকামা তার পিতা ওয়াযেল থেকে বর্ণনা করেন যে, নরী করিম (সা.) এর যুগে জনৈক নারী সালাত আদায়ের জন্য গমনকালে পথিমধ্যে তার সঙ্গে একজন পুরুষের দেখা হলে, সে ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। সে নারী চিৎকার দিলে, তার পাশ দিয়ে গমনকালে জনৈক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চায়। তখন সে নারী বলে: অমুক ব্যক্তি আমার সঙ্গে এরূপ অপকর্ম করেছে।

পরে তার পাশ দিয়ে মুহাজিরদের একটি দল গমনকালে সে নারী তাদের বলে: অমুক ব্যক্তি আমার সঙ্গে এরূপ কাজ করেছে। তারপর তারা গিয়ে এক ব্যক্তিকে ধরে আনে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, সে-ই এরূপ করেছে।

এরপর তারা সে ব্যক্তিকে উক্ত নারীর কাছে উপস্থিত করলে, সেও বলে: হ্যাঁ। এই ব্যক্তিই এ অপকর্ম করেছে। তখন তারা সে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট নিয়ে যায়। নবী করিম (সা) যখন সে ব্যক্তির ওপর শরীয়াতের নির্দেশ জারি করার মনস্থ করেন, তখন নারীর সঙ্গে অপকর্মকারী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় এবং বলে: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি -ই অপকর্ম করেছি। তখন নরী করিম (সা.) সে নারীকে বলেন: তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমার অপরাধ মাফ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি (সা.) ভুলভাবে ধরে আনা লোকটির সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করেন এবং ধর্ষক ব্যক্তিটির জন্য বলেন: একে পাথর মেরে হত্যা কর। তিনি (সা.) আরো বলেন: লোকটি এমন তাওবা করেছে যে, সমস্ত মদিনাবাসী এরূপ তাওবা করলে, তা কবুল হতো। (জামে আল-তিরমিযী, ১৭:৩৭, সুনান আবু দাউদ, ৩৮: ৪৩৬৬ (ইংরেজি)।

মালিক নাফির কাছ থেকে আমাকে বর্ণনা করেন যে, খুমুসের ক্রীতদাসদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে একজন ক্রীতদাস নিযুক্ত ছিল এবং সে একজন কৃতদাসীর ওপর ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করল এবং তার সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হলো। ওমর ইবনুল খাত্তাব তাকে চাবুকপেটা করলেন এবং তাকে বহিষ্কার করলেন, এবং তিনি দাসীটিকে চাবুকপেটা করলেন না কারণ ওই নারীর ওপর বল প্রয়োগ করে জোর খাটান হয়েছিল। (সহিহ বুখারি, আল-মুয়াত্তা, ৪১ ৩.১৫ (ইংরেজি)।

মালিক শিহাবের কাছ থেকে আমাকে বর্ণনা করেন যে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ধর্ষণের একটি বিচারে রায় দিলেন যে ধর্ষককে ধর্ষিত নারীর জন্য মোহর দিতে হবে। ইয়াহিয়া বললেন যে তিনি মালিককে বলতে শুনেছেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় যা করা হয় একজন পুরুষকে যে একজন নারীকে ধর্ষণ করে, হোক সে কুমারী বা অকুমারী, যদি সে মুক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই ওই পুরুষকে ওই নারীর জন্য নারীটির চাহিদা অনুযায়ী মোহর দিতে হবে। যদি সে একজন দাসী হয়, তাহলে অবশ্যই ওই নারীকে এমন সমতুল্য কিছু দিতে হবে যা তার অপমানিত মূল্যকে লাঘব করে। এরকম মামলায় হদ বা হুদুদ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে, এবং ধর্ষিত নারীটির ওপর কোনো শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না। যদি ধর্ষকটি একজন কৃতদাস হয়, তাহলে উক্ত দ্বায় তার মালিকের ওপর বর্তাবে যদি না ওই মালিকওই ক্রীতদাসটিকে আদালতের কাছে অর্পণ করে।’ (আল-মুয়াত্তা, ৩৬ ১৬.১৪ (ইংরেজি)।

ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি জিনার শাস্তির অনুরূপ, আর তা হলো যদি ধর্ষক বিবাহিত হয় তাহলে পাথর নিক্ষেপ, আর যদি অবিবাহিত হয় তবে একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন।

ইমাম মালিক সহ বেশ কিছু ইসলামি পণ্ডিত আরো বলেন যে ওই ব্যক্তির উক্ত নারীকে মোহর দিতে হবে।

ইমাম মালিক বলেন, আমাদের মতে যে ব্যক্তি কোনো নারীকে ধর্ষণ করে, হোক সে মহিলা কুমারী অথবা না, যদি সে একজন মুক্ত নারী হয় তাকে অবশ্যই দাবি অনুযায়ী অর্থ দিতে হবে, আর যদি ওই নারী কোনো দাসী হয়, তবে তাকে অবশ্যই এমন কিছু দিতে হবে যা দ্বারা সে নিজর ওপর সংঘটিত উক্ত দুর্ঘটনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। ধার্য শাস্তি ধর্ষকের ওপর প্রযুক্ত হবে এবং যে নারী ধর্ষিত হয়েছে তার জন্য কোনো শাস্তি নেই, মামলা যাই হোক না কেন।’ (আল-মুয়াত্তা, ২/৭৩৪)।

আল-শাফায়ি, আল-লায়িস উক্ত দৃষ্টিভঙ্গিরর সঙ্গে ঐকমত্য দেখিয়েছেন এবং আলী ইবনে আবি তালিবও একই রকম মতামত দিয়েছেন। আবু হানিফা এবং আস-সাওরি দাবি করেন যে, হুদুদ শাস্তি দিতে হবে কিন্তু ধর্ষক মোহর দিতে বাধ্য নয়। যাই হোক, আলেমরা সবাই এ বিষয় একমত যে, ধর্ষককে হুদুদ আইনের অধীনে শাস্তি দিতে হবে, যদি তার বিরুদ্ধে পরিষ্কার তথ্য প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় অথবা যদি সে অপরাধ স্বীকার করে এবং ধর্ষিত নারীকে কোনো শাস্তি দেয়া হবে না। ধর্ষণের মামলায়, চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেটি সব পরিস্থতিতিতে প্রযোজ্য নয়।

যদি কোনো ব্যক্তি তার অপরাধ স্বীকার করে, তখন প্রত্যক্ষদর্শীর প্রয়োজন হবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এধরনের অপরাধ স্বীকার বাতিল বলে গণ্য হয় এবং সাক্ষীর আবশ্যকতা আবার পুনর্বহাল হতে পারে। যদি কোনো প্রমাণ নাই পাওয়া যায় অথবা আসামী যদি দোষ নাই স্বীকার করে অথবা চারজন সাক্ষী না পাওয়া যায়, তখন বিচারক ধর্ষককে এমন কোনো শাস্তি দিতে পারেন যেটি তাকে এবং তার মতো অন্যান্যদেরকে এধরনের কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করবে এবং বিরত রাখবে।

ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী থেকে যদি, ধর্ষণের সময় আর্তনাদ বা সাহায্যের জন্য চিৎকারের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়, তবে নিযুক্ত কাজি উক্ত ঘটনাকে একটি শক্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন যা নির্দেশ করে যে, পুরুষটি উক্ত নারীকে জোর করেছিল বা তার ওপর শক্তি প্রয়োগ করেছিল। ধর্ষণের অভিযোগকারী যদি অভিযোগটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা মিথ্যা অভিযোগ বলে গ্রহণ করা হবে, যার শাস্তি হলো বেত্রাঘাত।

সমকামিতা:

ইসলামে কোনো পুরুষের সঙ্গে পুরুষের বা নারীর সঙ্গে নারীর বিবাহ হতে পারে না। তাই সমকামিতা বা একই লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে যৌনসঙ্গম যিনার অন্তর্ভুক্ত।

কোরআন সমলিঙ্গীয় যৌন সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করেছে, সূরা আন-নিসা, সূরা আল-আরাফ (লূতের জনগণের ঘটনার মাধ্যমে), এবং অন্যান্য সূরায়। উদাহরণস্বরূপ,

‘আমি লুতকেও পাঠিয়েছিলাম। সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা কি এমন কুকর্ম করবে যা সৃষ্টিজগতে তোমাদের পূর্বে এর আগে কখনো কেউ করেনি? কারণ তোমরা নারীদের পরিবর্তে পুরুষের দ্বারা নিজেদের কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ কর। তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।’

আরেকটি আয়াতে, নবী লুতের স্বীকারোক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে, ‘তোমরা কি পৃথিবীর পুরুষদের প্রতি অগ্রসর হও এবং তোমাদের প্রভু যাদেরকে সঙ্গিনী হিসেবে বানিয়েছে তাদেরকে (নারীদেরকে) ত্যাগ করো? তোমরা তো এমন এক সম্প্রদায় যারা সীমালঙ্ঘন করছে।’

কিছু ইসলামি পণ্ডিত নিম্নোক্ত আয়াতকে কোরআনে প্রদত্ত সমকামিতার শাস্তি হিসেবে নির্দেশ করেছেন।

‘যদি তোমাদের মধ্যে দুইজন (পুরুষ) কুকর্মের জন্য দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাদের উভয়কে শাস্তি দাও। যদি তারা অনুতপ্ত হয় এবং সংশোধিত হয়, তবে তাদেরকে ছেড়ে দাও; কারণ নিশ্চয় আল্লাহ অনুতাপ-গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’ (সূরা: ৪ (আন-নিসা), আয়াত: ১৬)।

তবে অনেক পণ্ডিত উক্ত আয়াতের ‘তোমাদের মধ্যে দুইজন’ বলতে ব্যাভিচারী নারী ও পুরুষ হিসেবে ব্যখা করেছেন।

হাদিসে সমলিঙ্গীয় যৌনকর্মকে জিনা বলে গণ্য করা হয়েছে, এবং শাস্তি হিসেবে হত্যা করতে বলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে,

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন- নবীজি বলেছেন, তোমরা যদি লূতের সম্প্রদায়ের কর্মে লিপ্ত কাওকে খুঁজে পাও, হত্যা কর তাকে যে এটি করে, এবং তাকে যার ওপর এটি করা হয়।’ (সুনান আবু দাউদ, ৩৮: ৪৪৪৭ (ইংরেজি)।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন: কোনো অবিবাহিত পুরুষ যদি সডোমিতে (পায়ুমৈথুনে) লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়ে, তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে। (সুনান আবু দাউদ, ৩৮: ৪৪৪৮ (ইংরেজি)।

ইসলামে সমকামিতার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে পুরুষদের মধ্যকার কর্মকাণ্ড নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে; ফুকাহাগণ (ইসলামি আইনবিদ) এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন যে ‘নারী সমকামিতার জন্য কোনো হুদুদ শাস্তি নেই, কারণ এটি জিনা নয়। তবে একটি তাজির শাস্তি অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে, কারণ এটি একটি পাপ…’
যদিও নারীদের সমকামিতার কথা ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায় না বলেই চলে, আল-তাবারি আল হাদির শাসনকালে তার কার্যক্রম নিয়ে ব্যপকভাবে সমালোচিত লোকমুখে প্রচলিত কাহিনীর সংকলনে উক্ত খলিফার হেরেমে একজোড়া সমকামী দাসীর অপ্রচলিত শাস্তির কথা উদ্ধৃত করেন।

অজাচার:

অজাচার হলো এমন ব্যক্তির সঙ্গে যৌনসঙ্গম যার সঙ্গে বিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ। যার সঙ্গে বিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম যিনার অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে অজাচারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অজাচারীকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইবনে আবাস হতে বর্ণিত। যে নবী বলেছেন, ‘যদি কোনো লোক আরেক লোককে বলে: ‘ওহে ইহুদি’ তবে তাকে বিশটি বেত্রাঘাত করো। যদি সে বলে: ‘ওহে হিজড়া’ তাহলে তাকে বিশটি বেত্রাঘাত করো। আর কেউ যদি মাহরাম (আপন পরিবারে সদস্য বা রক্ত সম্পর্কের অবিবাহযোগ্য আত্মীয়) ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে তবে তাকে হত্যা কর।’ (জামে তিরমিযী, ১৭: ৪৬)।

পশুকাম:

ইসলামে কোনো পশুর সঙ্গে মানুষের বিবাহ হতে পারে না। তাই পশুসঙ্গম যিনার অন্তর্ভুক্ত। পশুর সঙ্গে যৌনসঙ্গম ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তি ও ব্যবহৃত পশু উভয়কে হাদিসে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: ‘তোমরা যদি পশুর সঙ্গে সঙ্গমরত কাওকে খুঁজে পাও তবে তাকে এবং ওই পশুকে হত্যা করবে।’ ইবনে আব্বাসকে প্রশ্ন করা হলো: ‘পশুটির কি দোষ?’ তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূলকে এ সম্পর্কে কিছু বলতে শুনিনি, কিন্তু আমার মতে ওই পশুর সঙ্গে এরূপ জঘন্য অপকর্ম সঙ্ঘটিত হওয়ার কারণে আল্লাহর রাসূল উক্ত পশুর মাংস খেতে বা তা ব্যবহার করা পছন্দ করেননি।’ (জামে তিরমিযী,১৭: ৩৮)। (সূত্রঃ আমাদের সময়)

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + nineteen =

Back to top button