Breakingতথ্যপ্রযুক্তি

অনলাইনে গাছ বিক্রি করে লাখ টাকা আয়

রাস্তার পাশে গাছ বিক্রি করতেন ইউসুফ। দুই তরুণ যখন একদিন এসে ইউসুফকে বললেন, গাছের ছবি তুলে তাঁরা অনলাইনে বিক্রি করতে চান, ইউসুফ খুব একটা আমলে নেননি। তবে প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই ইউসুফকে অবাক করে দিয়ে প্রতি দিন প্রায় ২-৩ হাজার টাকার অর্ডার আসতে শুরু করল। এক সময় রাস্তার পাশের দোকান ছেড়ে দিয়ে দুই তরুণের সঙ্গে অনলাইনে গাছ বিক্রি করতে শুরু করেন ইউসুফ। ফেসবুকে তাঁদের পেজের নাম চিত্রা-বৃক্ষ হাট।

প্রকৌশলী থেকে গাছ বিক্রেতা
ইউসুফের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যে দুই তরুণ হাজির হয়েছিলেন, তাঁদের নাম মোহাম্মদ সাবরীল রহমান ও কামরুল ইসলাম। দুজনেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নটা মূলত সাবরীলকেই উদ্যমী করেছিল। আলোকচিত্রী বন্ধু কামরুল ইসলামের সহায়তা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এখন তাঁদের উদ্যোগ ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।

চিত্রা-বৃক্ষ হাট ফেসবুক পেজটির ফলোয়ার এখন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। সাবরীল বলেন, ‘শুধু ফেসবুক পেজ নয়। এখন আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে। দশজন কর্মচারী আছেন। প্রতিদিন আমরা ২০-২৫টি ডেলিভারি দিচ্ছি। মাসে গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাছের অর্ডার আসে। গত ৭-৮ মাসে আমরা অনলাইনের মাধ্যমে ৪ হাজারের বেশি অর্ডার নিয়েছি।’ সাবরীলদের কাছে এখন মৌসুমি গাছসহ প্রায় নব্বই ধরনের গাছ রয়েছে।

স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়ার সময় বন্ধুরা যখন উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া কিংবা চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, সাবরীল ভাবছিলেন, কীভাবে একটা স্টার্টআপ শুরু করা যায়। ২০১৮ সালে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে ভাবলেন, কৃষিভিত্তিক বা পরিবেশবান্ধব কিছু করলে কেমন হয়? তখনই চিত্রা-বৃক্ষ হাটের ভাবনা মাথায় আসে।

সবুজের জন্য ভালোবাসা
শুরুতে পরিকল্পনা ছিল, গ্রাম-বাংলার খুদে ব্যবসায়ীরা যেন তাঁদের চারাগাছগুলো অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য চিত্রা-বৃক্ষ হাটকে একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা। এখন পরিসরটা আরও বড় করার কথা ভাবছেন সাবরীল। চিত্রা-বৃক্ষ হাটকে প্রযুক্তিনির্ভর চাষ করা গাছের এক সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। যন্ত্রকৌশলের এই স্নাতক বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশে কৃষি আধুনিকায়ন সম্ভব। সেই লক্ষ্যে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভার্টিক্যাল গার্ডেনিংয়ের মাধ্যমে যে কেউ যেন নিজের বাসায় বাগান করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই একটি প্রোডাক্ট আনার কথা ভাবছি। হাইপোফোনিক (মাটি ছাড়া) উপায়ে চাষ করা গাছ আমরা কয়েকটি তাকে রেখে একটা বড় শেলফের মতো সাজিয়ে দেব। অনেকটা বুক শেলফের মতোই। আপনি বাসায় এনে কেবল বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সঙ্গে যুক্ত করে দেবেন। তাতেই গাছেরা নিজেদের মতো বেড়ে উঠবে।’

শুরুতে দ্বিধা ছিল। একটু একটু করে সাহস পেয়েছেন মোহাম্মদ সাবরীল রহমান। বললেন, ‘গাছের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যে এত প্রবল, সেটা কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে গ্রাহকের আস্থা আর বিশ্বাসটাই প্রধান। আমরা এই আস্থাটা ধরে রাখতে চাই।’

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 16 =

Back to top button